Monday, December 10, 2012

ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ফ্রীল্যান্সার’:পর্ব ১০ (শেষ)


দেখতে দেথতে ফ্রীলান্সিং নিয়ে পূর্বে ৯টি টিউটোরিয়াল প্রকাশ করেছি। সাধ্যমত চেষ্টা করেছি একদম প্রথম থেকে সব বিষয়গুলোকে সহজ ভাষায় সাজিয়ে উপস্থাপন করতে। আজ শেষ পর্বে কিছু গুরুপ্তপূর্ণ কথা বলেই শেষ করবো, এই বিষয়গুলো অনুসরন করতে পারলে একজন সফল ফ্রীলান্সার হতে বেশি সময় ব্যয় করতে হবে না বলে আশা রাখছি। তো চলুন শুরু করি…

যেকোন কাজে নিজেকে প্রোফেশনাল ভাবাটা যুক্তিযুক্ত মনে করি। তাহলেই কাজের মজা পাওয়া এবং নিজের মেধার সঠিক ব্যবহার করা যায়। কারন, যখন কেউ নিজের জন্য কাজ করে বেশির ভাগ-ই সময় এবং মেধাকে ঠিক কাজে লাগাতে পারে না। এক্ষেত্রে কাজটিকে অনেকটা নিজের করে ভাবাটাই সমস্যার শুরু। এধারনাটি পরিবর্তন করে সব কাজকে আপনার ক্লাইন্টের কাজ মনে করে শুরু করে দিন। দেখবেন কাজটি অতি দ্রুত এবং সময়ের মধ্যে আপনার কাঙ্খিত রূপ দিতে পেরেছেন। এখন প্রশ্ন হল, আপনি কি নিজেকে প্রোফেশনাল ভাবতে লজ্জ্বা/ভয় পান? ;) যদি লজ্জ্বা/ভয় পান তাহলে আপনাকে দিয়ে কোন কাজই হবে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব এই ধারনাটি পাল্টায় ফেলুন। নিজের কাজকেই অন্যের কাজ মনে করে কাজটি শুরু করুন। আর নিজেকে প্রোফেশলান না ভাবতে পারলে আপনার সারা জীবনের কর্ম ফল “শূণ্য”!!!

এবার মূল আলোচনা:

প্রোফেশনালিজম, নিজের কাজে মানদন্ড। এক্ষেত্রে আমি কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নিজেকে সবসময় মূল্যায়ন করতে পছন্দ করি এবং তাতে ফলাফলও ভালই পাচ্ছি। আমার পাকিস্তান এর ক্লাইন্ট এবং আমি এক সাথে কাজ করছি অনেক দিন প্রায় ৩ বছর হবে। প্রথম প্রথম প্রায় উনার আর মাঝে প্রতিটি কাজের মূল্য নির্ধারন করতে সমস্যা হত। কারন কাজের ধরনগুলো একটা আরেকটা থেকে আলাদা। আর উনি আমাকে কাজে রেট অনেক কম দিতে চাইতেন, তারপরও এক পযায়ে একটা মূল্য নিধারন করে কাজ করতাম। যদিও আমার লাভ হতনা তেমন একটা, তারপরেও এভাবে চললো কিছুদিন। লাভ এই জন্যই প্রথমে বেশি চাইতাম না কারন কাজটি আমার জন্য কমফর্ট্যাবল এবং কাজগুলো ২/৩ দিন সময়ের মধ্যে করে দেয়া যায়।
আমি সবসময় নিজের কাজগুলোকে অন্যের সাথে তুলনা করি। কাজটি ভাল করতে পারলাম কিনা সেটি দেখি। এর অর্থ হল নিজেরই নিজের প্রতি সন্তুষ্ট হওয়ার প্রবণতা। আর ঐ যে প্রথমেই বলেছি, প্রোফেশনালিজম, নিজের কাজে মানদন্ড। এটিকে আত্তস্থ্য করতে সব সময় চেষ্টা করতাম, এখনও করি। তারপর, কাজ করতাম আর কিছু দিন পরপর আমি মূল্য বাড়ানোর জন্য বলতাম। বায়াররাও আস্তে আস্তে রেটও বাড়াতেন কোন রকম কথা ছাড়াই। এবং কিছু কিছু করে এখন বায়ারদের থেকে ন্যায্য পাওনাই পাচ্ছি। :) কারন আমার সাথে কাজ করতে করতে তারা কাজের মানটাকে বুঝতেন। আর বুঝবেন না বা-ই কেন? আমিতো কাজ করছি তাদের জন্য, তারা যদি আমার থেকে তাদের কাজ আদায় করে নেন ভাল মতই তাহলে তারা অবশ্যই আমাকে মূল্যায়ন করতেও কার্পন্য করবেন না এবং বর্তমানে করেনো না।
আসলে যেকোন কাজে মূল্য নির্ধারনের মূল বিষয়টি নিজের কাজের মানের উপরেই নির্ভর করে। হয়তো অনেকেই আপনাকে বলবে, আপনার তো এই কাজটি করতে সামান্য সময়ই যথেষ্ট্য। তাহলে এতো দাম হাকাচ্ছেন কেন? কারন এটা ব্যবসায়ের একটি ঐতিহ্যগত প্রথা অনেক আগে থেকেই চলে আসছে, ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে দর কাষাকষি। উপযুক্ত ছোট উদাহরনের মাধ্যমে ব্যাপারটি আলোচনা করছিঃ
ধরুন, আপনি একজন ইলেক্ট্রিক টর্জ মেরামতকারী। প্রায় বিকল/নষ্ট একটি টর্জ নিয়ে একজন আপনার কাছে এসে তার সমস্যার কথা জানালো। আপনি সমস্যাটি বুঝে কয়েক মিনিটেই ঠিক করে দিলেন। পরিশ্রমিক হিসাবে আপনি দাবি করলেন ১০০ টাকা। এখন টর্জ এর মালিক আপনাকে প্রশ্ন করে বসলো, “স্ক্রু টাইট দেয়ারমত মাত্র কয়েক মিনিটের কাজের জন্য ১০০ টাকা দিতে হবে কেন? আপনি তো বেশি চাচ্ছেন।” তিনি এমনটা প্রশ্ন করতেই বা বলতেই পারেন। আসলেই ভিতরের ব্যাপারটিতো আর তিনি জানেন না। আপনার কাজ হচ্ছে তাকে ব্যপারটি বুঝিয়ে বলা এইভাবে, “দেখুন, কাজটি কয়েক মিনিটের তা ঠিক। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই কয়েক মিনিটের কাজটি করতে আমার কত দিন অন্য মিস্ত্রির পিছনে ঘুড়তে হয়েছে। কতদিন তার দোকানের বাবুর্চিগিরী করতে হয়েছে। কত দিন তার বাসার জন্য বাজার করতে হয়েছে। তারপর না তার কাছে এসব কাজ শিখার সুযোগ পেয়েছি তার যন্ত্রপাতি নাড়ার অনুমতি পেয়েছি। এখন আপনিই বলুন, আমার যতদিন, সময় এবং শ্রম ব্যয় করে এসব শিখেছি। তার কাছে এই কয়েক মিনিটের কাজের মূল্য কি আরো অনেক বেশি হতে পারে না?” :)
নিজের কাজকে অন্যের কাজে প্রেসেন্ট করতে জানুন। তাহলে, আশা করা যায় আপনার পণ্যের ক্রেতা যদি একজন সুস্থ মস্তিস্ক এবং বিবেক সম্পন্ন ব্যক্তি হন তবে, তিনি আর কোন প্রতি কথা না বলে আপনা পাওনা দিতে বাধ্য হবেন। আসলে এই উদাহরনটি শুধু মাত্র আপনার কাজের মানদন্ডকে মূল্যের সাথে তুলনা করতেই তুলে ধরা। :)

উদাহরণটি অনুসারে আমার যুক্তি: নতুনদের জন্য অনুস্বরনীয় !
১. নিজের কাজের মূল্য নিজেই নির্ধারন করবেন, তবে হুট করে অতিরিক্ত দাম হাকাবার মত ভুল করবেন না। একদম নতুন অবস্থায় আলোচনা সাপেক্ষে কাজ কাজ করবেন। কারন নতুন অবস্থায় নিজের কাজ সম্পর্কে ভালমত রিভিউ করতে না পারলে অযাথা মূল্য বেশি চাইলেও পাবেন না।
২. যেকোন কাজ কোন বায়ার এর সাথে শুরু করার আগে তার সাথে ভবিষতেও কাজ করতে পারেন বা সে দেয় এমন চিন্তা নিয়েই কথা বলবেন। আস্তে আস্তে অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে কাজের রেট বাড়ান।
৩. প্রধম অবস্থাতে যেকোন কাজের জন্য এবং স্থায়ীভাবে বায়ার ধরার জন্য কাজ কম রেটেই করতে পারেন। তবে, কেউ আপনাকে রেশি রেট দিলে সেটা ভাল। বায়ার আর আপনার মধ্যে পারস্পানিক সম্পর্ক যেন ঠিক থাকে সেভাবে কাজ সম্পন্নকরে যাবেন। উভয়ই কাজের মূল্য এর ব্যাপারে আলোচনা করে স্থির করবেন। আপনার সাথে কোন বায়ারের মূল্য নির্ধারনে বার বার সমস্যা হলে তার সাথে কাজ না করাই ভাল। কারন, বাস্তবিকতার আড়ালে এধরনের বায়ারদের লেনদেনের কোন ভবিষত সম্পর্ক সৃষ্টি হয় না। কার কেউ ছাড় না দিলে ভবিষতে কাজ করার ইচ্ছাও জাগবে না। এ কারনে এই ধরনের মানুসিকতা না রেখে দুই পক্ষকেই সমঝোতার মাধ্যমে কাজ করাটাই ভাল এবং সুদূর প্রসারি।
৪. বার বার ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলছি, হয়তো অনেকে বিরক্ত হচ্ছেন। কেউ হয়তো ভাবছেন, দুনিয়াতে এতো বায়ার থাকতে কেন ভবিষতে কাজ করার কথা বলছি, কারন হল: আপনি কাজ করছেন ঠিক আছে, হয়তো আপনি যে কাজটি পারেন সে কাজটির জন্য দাম এ ছাড় দিতে রাজি নন আপনি। এবং আপনার সেই কাজটি অন্যরাও সচরাচর জানে। তাই মূল্য কন্সিডার না করার কারনে কাজটি আপনি হারাতে পারেন, সাথে তার মাধেমে আরো অন্য বায়ার আসার সম্ভাবনাকেও।নিশ্চিত আয় থেকেও বিরত থাকলেন।
৫. এবার যদি আসেন দুই পক্ষের যোগ্যতা নিয়ে বলতে: তবে বলবো কেউ বিনা পয়সায় কিছুই অর্জন করতে পারে না। সবাইকেই অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু যখনই প্রোফেশনালিজম এর অন্তর্ভূক্ত হবেন এখানেই চিন্তা করে পা রাখবেন প্রথম দিকের পদক্ষেপ গুলো। যেমন, একজন ডাক্তার হয়তো লন্ডন থেকে ডাক্তারি পাশ করে আসছেন। লক্ষ টাকা খরচ করে নিজের চেম্বার সাজিয়েছেন। কিন্তু উনি সেবার বিনিময়ে কিছু দাম ছাড় দেন না বলেই হয়েতো “উনার চেম্বার ফাকা”! আপনি নিজে প্রথম বার হয়তো তার বেধে দেয়া দামেই দাত তুললেন কিন্তু, তার নাছোড়বান্দা দাম এর কারনে হয়তো পরবতীতে তার কাছে আর যাবেন না এবং অন্যদের কেও তার কাছে রেফার করবেন না। কি ঠিক বলছি কিনা? ;)
আজকের শেষ পর্বের আলোচনা এখানেই শেষ। যারা পূর্বের পোষ্টগুলো দেখেন নাই। নিজের লিঙ্কগুলো থেকে দেখে নিতে পারেন।
ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ফ্রীল্যান্সার’ টিউটোরিয়ালঃ পর্ব ১
ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ফ্রীল্যান্সার’ টিউটোরিয়ালঃ পর্ব ২
ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ফ্রীল্যান্সার’ টিউটোরিয়ালঃ পর্ব ৩
ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ফ্রীল্যান্সার’ টিউটোরিয়ালঃ পর্ব ৪
ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ফ্রীল্যান্সার’ টিউটোরিয়ালঃ পর্ব ৫
ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ফ্রীল্যান্সার’ টিউটোরিয়ালঃ পর্ব ৬
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ফ্রীল্যান্সার’ টিউটোরিয়ালঃ পর্ব ৭
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ফ্রীল্যান্সার’ টিউটোরিয়ালঃ পর্ব ৮
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ফ্রীল্যান্সার’ টিউটোরিয়ালঃ পর্ব ৯

সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ফ্রীল্যান্সার’:পর্ব ৯


ফ্রীলান্সার নিয়ে আজকের নবম পর্ব শুরু করতে যাচ্ছি। গত ৭ম ও ৮ম পর্বে দেখিয়েছি কিভাবে বায়ার হিসাবে ফ্রীলান্সারে প্রোজেক্ট পোষ্ট করবেন ও প্রোজেক্ট এ নির্বাচিত প্রোভাইডারকে মাইলস্টোল পেমেন্ট তৈরী করবেন এবং তা রিলিজ করে দিবেন। এই দুই পোষ্ট প্রোজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে এই পোষ্টি আপনার জন্য কাজে আসবে। অর্থাত, এই পর্বে দেখাবো কিভাবে একটি প্রোজেক্ট এর কাজ শেষে সম্পন্ন করার পড়ে বায়ার(আপনি) এবং প্রোভাইডার(আপনার ওয়ার্কাস) উভয়ই উভয়কে রিভিউ/ফিডব্যাক দিবেন।

আসলে যেকোন ফ্রিলান্স সাইটে কাজ করার পর টাকা পাওয়াটাই মূল লক্ষ না। কাজের পাশাপাশি ফিডব্যাক/রিভিউ এরও দরকার। কারন এই ফিডব্যাক/রিভিউ-ই আপনাকে পরবর্তীতে অন্য বায়ার এর থেকে কাজ পেতে সাহায্য করবে। আর বর্তমান ফ্রিলান্সিং এ রিভিউ/ ফিডব্যাক ছাড়া কাজ দেয়া এবং নেয়াও অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তো চলুন আর বেশি কথা না বাড়িয়ে শুরু করি কিভাবে একটি প্রোজেক্ট এর কাজ শেষে সম্পন্ন করার পড়ে বায়ার(আপনি) এবং প্রোভাইডার(আপনার ওয়ার্কাস) উভয়ই উভয়কে রিভিউ/ফিডব্যাক দিবেন তা দেখি…
১. যখনই আপনি আপনার প্রোজেক্টের জন্য বরাদ্দকৃত টাকার সম্পূর্ণ অংশ আপনার প্রোভাইডারকে পেমেন্ট করে দিবেন(এটি একবারে সর্ম্পূর্ন অংশ হতে পারে অথবা কয়েক বারেও পরিশোধ করতে পারেন)। ঠিক তখনই আপনার ফ্রীলান্সার এর ড্যাশবোর্ডে স্বয়ংক্রীয়ভাবে নিচের ইমেজটির মত করে একটি বার্তা প্রদর্শন করবে। এর অর্থ হল এখন আপনি আপনার প্রোভাইডারকে রিভিউ/ফিডব্যাক পোষ্ট করুন। এখানে থেকে rate now বাটনে ক্লিক করুন।
২. পরের পেজে নিচের মত কিছু অপশন আসলে সবগুলো positively নিবার্চন করবেন। বেপারগুলো ইমেজে দেখিয়ে দিলাম। তাই বিস্তারিত লিখলাম না। শুধু এতটুকু বলে রাখি যে, আপনার প্রোভাইডারকে ভাল রিভিউ/ফিডব্যাক দিলে আপনি নিজেও ভাল রিভিউ/ফিডব্যাক পাবেন। এই বেপারটিতে সব সময় পজেটিভ থাকবেন। নিচের চিত্রটি লক্ষ করুন। :)
৩. উপরের পেজেরই নিচের অংশে একটি প্রাইভেট মেসেজ অপশন পাবেন, যেটি লিখলে ফ্রীলান্সার কর্তৃপক্ষ আপনার প্রোভাইডারের ব্যপারে জানবে। সুতরাং এখানেও সবসময় পজেটিভ লিখবেন। এটি কিন্তু আপনার প্রোভাইডার দেখতে পারবে না। শুধু ফ্রীলান্সার কর্তৃপক্ষ দেখতে পারবে। লিখার শেষে সব আবারো দেখি নিন কোথাও ভুল করেছেন কিনা। তারপর, RATE USER এ ক্লিক করুন। :)

৪. উপরের RATE USER এ ক্লিক করার সাথে সাথে আপনার কাজ শেষ। পরের পেজে নিচের মত মেসেজ দিবে, কিছুক্ষনের মধ্যে আপনার দেয়া রিভিউ/ফিডব্যাকটি আপনার প্রোভাইডারের প্রোফাইলে এবং পাবলিকালি ফ্রীলান্সারের সব ব্যক্তিদের কাছে প্রদর্শিত হবে।

ব্যাস! আপনার বায়ার হিসাবে কাজ এখানেই শেষ। ঠিক একই ভাবে আপনার প্রোভাইডারও আপনাকে রিভিউ/ফিডব্যাক দিবে। :)
একই ভাবে পরবর্তীতে আপনি অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রোজেক্ট ওপেন করতে পারবেন। এখন সব কাজ সম্পাদনের পরে রিভিউ/ফিডব্যাক প্রদান করতে পারবেন।
আজ এই পর্যন্ত। দেখা হবে ফ্রীলান্সার নিয়ে আগামী শেষ পর্বে খুব শীঘ্রই।
সেই পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ফ্রীল্যান্সার’:পর্ব ৮


গত একমাস বা তা্রও আগে থেকে যারা ফ্রীলান্সার.কম এ কাজ করছেন তারা হয়তো কিছু বিষয় লক্ষ করছেন যে, ফ্রীলান্সার কর্তৃপক্ষ তাদের পূর্বের কিছু নিয়মশৃঙ্খলার পরবর্তন ঘটিয়েছেন। আসলে পরিবর্তন না বলে বলবো উন্নয়ন করেছেন তাদের বায়ার ও প্রোভাইডারদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বিশ্বাস বাড়ানোর জন্য। কারন এর আগে অনেক বার বায়ার এবং প্রোভাইডার উভয়ই উভয়ের কাছে প্রতারিত হচ্ছিল।

কিছুদিন আগেও একটা সমস্যাবোধ হতো প্রোভাইডারদের কাছে, যেমন: বায়ার প্রোজেক্ট জয়ী করায় দিয়েই কাজ শুরু করে দিতে বলতেন তাদের দেয়া নির্দেশনা মত। এতে করে দেখা যেত, যারা একদম নতুন তারা প্রতারিত হতেন ৭০%। নতুন ফ্রীলান্সাররা যখন প্রথম প্রোজেক্ট জয়ী হয় তখন তাদের মধ্যে একটি উত্তেজনা কাজ করে কিভাবে অতি দ্রূত বায়ারের কাজ সমপন্ন করে দিতে পারে। ফলে, নতুন কাজ পেয়ে বায়ারের সাথে পেমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা না করেই কাজে নেমে পড়ে। আর বায়ারের যদি অসত উদ্দেশ্য থাকে তবে, আপনার কাজ করাই বেকার যাবে। টাকা আর পাবেন না। অবশ্য সব বায়ার এমনটা না। এখন কথা হল বায়ার যেমনি হোক আপনার লক্ষ থাকবে মাইলস্টোন পেমেন্ট নিবেন তারপরে কাজ শুরু করবেন। অবশ্য দেশী বায়ার হলে তাদের ব্যাপারটা শিথিলযোগ্যও হতে পারে। ;)
বর্তমানে ফ্রীলান্সার যেসব উন্নয়ন করেছেন তাদের ক্লায়ন্টদের জন্য তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, যখন একজন বায়ার প্রোজেক্ট পোষ্ট করাবেন তখন তার একাউন্ট থেকে $5 সাধারনত কাটা যায়। কিন্তু, তারপরে আবার যখন প্রোজেক্ট জয়ী করাবেন তখন আরো $2 কাটা যাবে। ;) কি ভাবেছেন, এসব শুনেই কি বায়ার হবার চিন্তা বাদ দিলেন নাকি? চিন্তার কোন কারন নাই আপনি এখানে থেকে $5 রিফাউন্ড পাবেন অবশ্যই। সেটা কিভাবে; দেখুন: আগের নিয়ম অনুসারে যখন একজন বায়ার প্রোজেক্ট জয় করায় দিতেন তখন তিনি সাথে সাথেই $3 রিফাউন্ড পেতেন। কিন্তু বর্তমানের নতুন সিস্টেম অনুয়ায়ী, সাথে সাথে পাবেন না। আপনি প্রোজেক্টের কাজ পোভাইডার থেকে বুঝায় নিবেন তারপরে তার মাইলস্টোন রিলিজ করবেন এবং সম্পূর্ণ পেমেন্ট পরিশোধ করার সাথে সাথেই $5(প্রোজেক্ট ফিস থেকে $3 এবং পরের $2) রিফাউন্ড হবে স্বয়ংক্রীয়ভাবে। আর বায়ার মসাই যদি আপনার সাথে ধোকাবাজি করে তাহলে তার $5 আর রিফাউন্ড পাইতে হবে না। :D তাহলে এর থেকেই বুঝা যায় যে এখন কিছুটা হলেও নিরাপত্তা পাবেন। আর হ্যা, এই পোষ্টটি কিন্তু আপনি একজন বায়ার হিসাবে পড়বেন, সুতরাং নিজের দিকটাও ভাববেন ভাল করে !! ;)
তো চলুন দেখি কিভাবে আপনি আপনার প্রোভাইডারকে মাইলস্টোন পেমেন্ট দিবেন এবং তার কাজ শেষে রিলিজ করবেন তার সচিত্র টিউটোরিয়াল…
১. ফ্রীলান্সার একাউন্টে লগইন থাকা অবস্থায় Payments > New Milestone Payment এ ক্লিক করুন।
২. তারপর নিচের চিত্রের মত করে রেডিও বাটনগুলো নির্বাচন করুন। Partial(আংশিক) payment for project. এবার Please choose the related project থেকে Active রেডিও বাটনগুলো নির্বাচন করুন। এবং তার নিচের থেকে আপনি যে প্রোজেক্টের জন্র মাইলস্টোন দিবেন সেটি নিবার্চন করুন। যেই প্রোজেক্ট এর জন্য মাইলস্টোন দিবেন সেই প্রোজেক্ট প্রোভাইডার এর Username নির্বাচন করুন। পরের ফাকা অংশটুকুতে পেমেন্টটি কি জন্য দিচ্ছেন তা লিখে দিন। তারপর কত ডলার মাইলস্টোন পেমেন্ট হিসাবে দিবেন তা লিখে দিন। সর্বশেষে Next করুন।
৩. এই পেজে আপনাকে কনফার্ম করতে হবে। দেখুন ঠিক নিচের মতই পাবেন। কনফার্ম এ টিক মার্ক করে Create Milestone Payment ক্লিক করুন।
৪. আপনার মাইলস্টোন পেমেন্টটি সফলভাবে তৈরী হরে নিচের মত বার্তা পাবেন।

আসলে মাইলস্টোন পেমেন্ট কি?

মাইলস্টোন পেমেন্ট হচ্ছে, বায়ার এর প্রোজেক্টে আপনার কাজ শেষে টাকা পাবার নিরাপত্তার জন্য বায়ার কর্তৃক, নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ(ডলার) আপনার একাউন্টে(আপনার ফ্রীলান্সার আইডি’তে) ঝুলায় দেয়া। এর মানে এই নয় যে, আপনি আপনার একাউন্টে টাকাটি দেখতে পারবেন বা খরচ করতে পারবেন, কাজ শেষে আপনি যখন বায়ারকে মাইলষ্টোন বিলিজ এর জন্য রিকোয়েস্ট করবেন তখন বায়ার আপনার মাইলস্টোন রিলিজ করে দিবে। এবং আপনি আপনার একাউন্টে টাকা(ডলার) দেখতে পারবেন। এই উভয় লেনদেন এর জন্য। আপনি ইমেইলে কনফার্ম মেসেজ পাবেন সাখে সাথেই। :)
এখন কিভাবে কাজ শেষে আপনি আপনার প্রোভাইডারকে টাকা(ডলার) দিবেন তা দেখি…
৫. ফ্রীলান্সার একাউন্টে লগইন থাকা অবস্থায় Payments > Manage Milestone Payments এ ক্লিক করুন।
৬. নিচের চিত্রের মত Take Action থেকে Release Part or Full Payment নির্বাচন করুন।
৭. এবার পেজটি সয়ংক্রীয়ভাবে রিডাইরেক্ট হয়ে নিচের মত পেজে আসবে। কনফার্ম এর ক্লিক দিয়ে, নিচে ফ্রীলান্সার প্রোফাইলের আপনার নামটি লিখে দিন। তারপর Yes, Release it! করুন।
৮. এবার যদি আপনার মাইলস্টোনটি রিলিজ সফল হয় তবে নিচের মত বার্তা পাবেন।
৯. এবার ফ্রীলান্সারে আপনার একাউন্ট ব্যালেন্স চেক করুন।
ব্যাস! মাইলস্টোন তৈরী এবং রিলিজের কাজ এখানেই শেষ। আপনার কোথাও বুঝতে সমস্যা হলে মন্তব্যে জনাবেন। পরবর্তী পর্ব আসছে শীঘ্রই। :)
সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ফ্রীল্যান্সার’:পর্ব ৭


আবারো ফ্রীলান্সার নিয়ে লিখে ফেললাম। গত ৬ টি পর্বে ফ্রীলান্সার এর একদম শুরু থেকে লিখার চেষ্টা করে আসছি। যাতে করে বিগেইনার/নতুনরা সহজে বিষয় গুলো বুঝতে পারে। আপনারা যারা আগের পর্বগুলো দেখেন নাই তারা দেখে নিতে পারেন পাশের সাইটবার গ্যাজেট থেকে।

মূল কথায় আসি ….
এতোদিন আপনি কাজ করলেন একজন ফ্রীলান্সার এর প্রোভাইডার/ওয়ার্কার হিসাবে। মানে, অন্য বায়ারদের কাজ নিয়ে আপনি নিজে বা আপনার গ্রুপের অন্য সদস্যদের দিয়ে করায় নিতেন। কিন্তু যদি এমনটা ইচ্ছা হয় বা কখনো আপনার কোন কাজ অন্যকোন ফ্রিলান্স ওয়ার্কার দিয়ে করাবেন, তাহলে? উপায় আছে, আর এ উপায়টি নিয়েই আজকের বিস্তারিত পোষ্ট। তো চলুন কথা না বাড়িয়ে ফ্রীলান্সার সিরিজ পর্বের আজকের ৭ নং পর্ব শুরু করি।
১. আপনার ফ্রীলান্সার একাউন্টে লগইন করুন। তারপর হোম পেজের নিচের দিক থেকে POST A PROJECT NOW বাটনে ক্লিক করুন।
২. নতুন প্রোজেক্ট পোষ্ট করার জন্য একটি পেজ আসবে। আপনাদের বুঝার সুবিধার্তে পেজটির সব অপশন গুলো বিস্তারিত ভাবে নিচে তুলে ধরলাম।
ইমেজটি সম্পূর্ণভাবে দেখতে এর উপরের ডান ক্লিক করে নতুন পেজ ওপেন করুন।
ক) Project name: এখানে আপনার পছন্দ অনুসারে প্রোজেক্টের নাম দি ৱতে পারেন। তবে হ্যা, নাম পছন্দ করবেন প্রোজেক্টের বিষয় এর উপরের ভিত্তি করে। ইররিলেভেন্ট বা অসমঞ্জস্য নাম ব্যবহার করবেন না। মনে রাখবেন, প্রোজেক্টের নামের উপরের অনেক কিছুই নির্ভর করে।
খ) Category: এটাও আপনার প্রোজেক্টের উপরেই নির্ভর করবে। তবে, বেশির ভাগই Customized প্রোজেক্ট হিসাবে থাকে।
গ) Add Skill: এটি অত্রান্ত গুরুপ্তপূর্ণ একটি অপশন। আপনি এখানে যেসব স্কীল(দক্ষতা) এ্যাড করে দিবেন। আপনার প্রোজেক্টে যারা বিড করবে তাদেরও সেইসব স্কীল থাকেতে হবে। তা না হলে বিড করতে পারবে না। অনেকেই দেখা যায় স্কীলগত সমস্যার কারনে পছন্দের প্রোজেক্টে বিড করতে পারেন না। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভাল, আপনি যদি মনে করেন যে, আপনি প্রোজেক্টটি করতে পারবেন তবে প্রোফাইলের কোফালিফিশেন থেকে আপনার স্কীলগুলো পরিবর্তন কনে নিয়ে বিড করতে পারবেন। :)
ঘ) Describe Your Project in Details: এইখানে আপনার প্রোজেক্টের সম্পূর্ণ বিবরন থাকবে। কিভাবে কি করতে হবে। কাজের মাধ্যম কি এবং কিভাবে পেমেন্ট করবেন তা এখানে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করবেন।
ঙ) Attach File: আপনি যদি উদাহরন স্বরূপ অথবা কাজটি কি ধরনের হবে তা প্রোভাইডার/ওয়ার্কার্সকে দেখাতে চান তবে Attach File থেকে সংযুক্ত করে দিতে পারেন।
চ) Budget for you Project: আপনার প্রোজেক্টের বিশালতা অনুযায়ী তার মূল্য এখানে নির্ধারন করে দিতে হবে।
ছ) How long should the project stay open for bidding: এই অপশনটিও গুরুপ্তপূর্ণ। এখানে আপনার প্রোজেটক্টি কতদিন বিড করা জন্য উম্মুক্ত থাকবে তা লিখে দিতে হবে। সর্বনিম্ন ১ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৬০ দিন এর মধ্যে দিতে হবে।
জ) Promote Your Listing: এই অপশনটি সচরাচর ব্যভহার হয় না। তবে, জেনে রাখা ভাল এগুলো শুধুমাত্র ব্যবহার করা হয় প্রোজেক্টকে হাইলাইট করতে। এখানের মধ্যে চারভাবে আপনি আপনার প্রোজেক্টকে হাইলাইট করতে পারেন। তবে, যে অপশনটি ব্যবহার করে হাইলাইট করবেন তার জন্য অতিরিক্ত(প্রোজেক্টের জন্য নির্দিষ্ট চার্জ বাদেই) ডলার আপনার একাউন্ট থেকে চার্জ কাটা হবে। এসব অপশন স্বাধারনত বড় বড় প্রতিষ্টানরাই ব্যবহার করে থাকেন।
ঝ) এবার সব কিছু আবারো ভাল ভাবে দেখে নিন। তারপর, Preview my Project>> এ ক্লিক করেন।
৩. নিচের মত প্রোজেক্টের প্রিভিউ হবে। এখানে জেনে রাখবেন, প্রোজেক্টটি যখন চূড়ান্তভাবে পাবলিশ করবেন; তখন আপনার একাউন্ট থেকে প্রোজেক্ট ফিস বাবদ ফ্রীরান্সার.কম $5 কেটে নিবে। অবশ্য যখন প্রোজেক্ট সম্পূর্ণ হবে এবং আপনি আপনার প্রোবাইডার/ওয়ার্কার্সকে প্রোজেক্টএর সম্পূর্ণ টাকা প্রদান করবেন তখন এই $5 রিফাউন্ড/ফেরত পাবেন। :)
সবশেষে Post Project Now এ ক্লিক করুন। কিছুক্ষনের মধ্যে আপনার প্রোজেক্টটি ফ্রীলান্সারের সকল ক্লাইন্টসদের কাছে ভিজিবল/প্রদর্শিত হবে।
ইমেজটি সম্পূর্ণভাবে দেখতে এর উপরের ডান ক্লিক করে নতুন পেজ ওপেন করুন।
এই হল ফ্রীলান্সারে একজন বায়ার হিসাবে প্রোজেক্ট দেয়ার সহজ নিয়ম। তবে, হুট করেই কখনও অপ্রোয়জনে প্রোজেক্ট দিতে যাবেন না। কারন, প্রোজেক্টটি সম্পূর্ণ করতে না পারলে আপনার প্রোফাইলে সমস্যাও করতে পারে। আর প্রোজেক্ট দিয়েতা সম্পূর্ণ করতে না পারলে প্রোজেক্ট ফিস বাবদ $5-ও রিফাউন্ড/ফেরত পাবেন না। একারনে দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হবেন আপনি নিজেই। তাই চিন্তা ভাবনা করে প্রোজেক্ট দিবেন। আর তেমন প্রয়োজন না হলে দরকার কি বায়ার হবার। ;)
আশা করি পোষ্টটি পড়ে উপকৃত হবেন। সমস্যা হলে মন্তব্য আকারে জানাবেন। আর হ্যা, ফ্রিলান্সিং এ ইচ্ছুক আপনার বন্ধুদের পোষ্টটি শেয়ার করে জানাতে ভুলবেন না। :)
সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। 

ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ফ্রীল্যান্সার’:পর্ব ৬


প্রায় ১ মাস এরও বেশি সময় পরে আবারো ফ্রীলান্সিং নিয়ে লিখলাম। আগের ৫টি পর্ব থেকে যারা কিছুটা হলেও উপকৃত হয়েছেন তাদরে জন্য আজকের পোষ্টটি। তবে, পূর্বে পোষ্টগুলো একদম নতুন ফ্রীলান্সারদের জন্য করা। আজকের এই পোষ্টটিও তাদের ধারাবাহিক পর্বের একটি। আজের পোষ্টের বিষয় হচ্ছে, কিভাবে মানিবুকার্স থেকে ফ্রীলান্সার একাউন্টে ডলার ডিপোজিট করবেন। গত পোষ্টটি যারা দেখেন না দেখে নিন কিভাবে মানিবুকার্স এর মাধ্যমে ফ্রীলান্সার থেকে ডলার উত্তোলন করবেন। আজ নতুন করে কিছু না বলে চলুন মূল আলোচনায় যাই।

logo
১. মানিবুকার্স থেকে আপনার ফ্রীলান্সার একাউন্টে ডিপোজিট করতে হলে প্রথমত আপনার মানিবুকার্স একাউন্টে প্রয়োজনীয় ডলার জমা থাকতে হবে। তা না হলে ডিপোজিট সম্ভব না।
২. মানিবুকার্স এর প্রয়োজনীয় ডলার জমা থাকলে আপনার ফ্রীলান্সার একাউন্টে লগইন করে> Payments > Deposit Funds এ ক্লিক করুন।
1
৩. Payments Methods থেকে Moneybookers নির্বাচন করুন। তারপর, Amount to deposit এ আপনি যত ডলার জমা করতে ইচ্ছুক তা লিখে দিন(সর্বনিম্ন 10$), সর্বশেষে Next করুন।
2
৪. সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা দেখে Deposit এ ক্লিক করুন।
3
৫. এবার মানিবুকার্স এর উত্তোলন পেজ আসবে এখানে থেকে আপনাকে আপনার মানিবুকার্স একাউন্টে লগ ইন করতে হবে। নিচের চিত্রের ডান দিকে লক্ষ করুন।
4
৬. মানিবুকার্স পেমেন্ট মেথড নির্বাচন করে দিন (আপনার মানিবুকার্স একাউন্টে যদি ডেবিট মাস্টারকার্ড সংযুক্ত করা থাকে তবে মানিবুকার্স এর মাধ্যমে সেখানে থেকেও ডলার জমা করাতে পারবেন)। তারপর, Confirm করুন।
5
৭. Confirm করার সাথে সাথে মানিবুকার্স থেকে আপনার ফ্রীলান্সার একাউন্টে ডরার জমার হয়ে যাবে। এবং আপনার মানিবুকাস ও ফ্রীলান্সার মেইলে দুটি কনফার্ম মেইল পাঠানো হবে।
6
৮. এবার আপনার ফ্রীলান্সার একাউন্টের ড্যাশবোর্ডে গিয়ে চেক করুন, আপনার রিকোয়েস্টকৃত ডলার সঙ্গে সঙ্গে জমা হয়ে গেছে।
7
[কিছু নোট : মানিবুকার্স, পেপাল এবং মানিবুকার্স ক্রেডিট কার্ড থেকে ফ্রীলান্সারে ডরার জমা করালে ফি বাবদ আপনার রিকোয়েষ্টেড ডলারের ২.৩০% এবং অয়্যার ট্রান্সফার এর মাধ্যমে জমা করালে ২.০০% চার্জ কাটবে। ;)   ]
পোষ্টটি বুঝতে সমস্যা হলে অবশ্যই জানাবেন। তাড়াহুড়া করে উত্তোলন করতে যেয়ে কষ্টে অর্জিত ডলার যেন নষ্ট না হয় সেদিকে খেন রাখবেন। আর ফ্রীলান্সার বিষয়ক আমার পোষ্টে যারা নতুন তারা পূর্ববর্তী পোষ্টগুলো দেখতে পারেন এখানে থেকে।
আজ এই পর্যন্ত। দেখা হবে আগামী পোষ্টে।
সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ফ্রীল্যান্সার’:পর্ব ৫


বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেকোন ফ্রীল্যান্সিং সাইটেই কাজ করে তার পেমেন্ট ঘরে নিয়ে আসা সত্যি অনেক কষ্টসাধ্য। একদিকে অতিরিক্ত চার্জ দিতে হয় আবার অন্য দিকে যদি ব্যাংক থেকে উঠাতে হয় তবে, ব্যাংকে তার প্রমান দেখাতে হয় মাঝে মাঝে যে, অর্থটি কোথা থেকে এসেছে:( আরো অনেক কিছু। যাই হোক আজকের আলোচনা কিভাবে মানিবুকার্স এর মাধ্যমে ফ্রীলান্সার থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। বলতে পরেন মানিবুকার্স কে ফ্রীলান্সারে এক্টিভিশন প্রক্রিয়া। তো চলুন শুরু করা যাক …

১. আপনার ফ্রীলান্সার ড্যাসবোর্ড এর পেমেন্টস মেন্যু থেকে Withdraw funds এ ক্লিক করুন।
1
২. এবার Withdraw request থেকে moneybookers.com নির্বাচন করুন।
2
৩. উল্লেখ্য, আপনি যত ডলার উত্তোলন করতে চাইবেন, আপনার একাউন্টে অবশ্যই তত ডলার থাকতে হবে। moneybookers.com এর মাধ্যমে আপনি সর্বনিম্ন 30$ এবং সর্বোচ্চ 10000$ উত্তোলন করতে পারবেন। এবার, Withdraw অপশনে আপনার moneybookers.com এর ইমেইল আইডি, Withdraw ডলারের পরিমান লিখে দিয়ে Next করুন।
3
৪. এবার, moneybookers.com এ আপনার রিকোয়েষ্ট কনফার্ম করুন। যদি কোন কিছু পরিবর্তন করতে হয়, তবে Back করে পরিবর্তন করে নিন। অন্যথায়, Submit Request এ ক্লিক করুন।
4
৫. আপনার মেইলে কনফার্ম মেসেজ দিবে রিকোয়েষ্ট টি সাবমিট হলে। এখানে, Request Status : Delayed দেখানোর কারন হচ্ছে আপনার ফ্রীলান্সার একাউন্টে পর্যাপ্ত ডলার নাই। রিকোয়েষ্ট প্রোসেসিং এর সময় নিবে অন্ত্যত ১৫-২০ দিন। তার পরের রিকোয়েষ্ট গুলো সর্বোচ্চ ৩ দিন সময় নিবে। কবে নাগাদ আপনার ডলার moneybookers.com এর ডিপোজিট হবে তাও উল্লেখ্য।
5
৬. এবার Payments মেন্যু থেকে View Payments এ ক্লিক করে পেমেন্ট এর বিস্তারিত দেখে নিন।
6৭. নিচের ইমেজটি লক্ষ করুন। এখানে, ৪৫ ডলার উত্তোলনের জন্য রিকোয়েষ্ট করা হয়েছে ২১/৩/২০১১ তারিখে এবং তা ১২/৪/২০১১ তারিখের মধ্যে মানিবুকার্স একাউন্টে পাঠানো হবে নির্দেশনা মতে। আবারো বলছি, ফ্রীলান্সারের জন্য প্রথম বারের মত মানিবুকার্সে উত্তোলন করতে সময় লাগে কমপক্ষে ১৫-২০দিন। আর একবার একটিভ হলে, পরবর্তী পেমেন্ট রিকোয়েষ্ট গুলো ২-৩ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হয়।
7৮. আপনার পেমেন্ট রিকোয়েষ্ট অনুযায়ী যদি একাউন্ট-এ পর্যাপ্ত ডলার না থাকে তবে, উপরের চিত্রের মত স্টাটাস দেখাবে। পর্যাপ্ত ডলার থাকলে তা নিচের চিত্রের মত স্টাটাস প্রদর্শন করবে।
8
এবার অপেক্ষা করুন ডলার ট্রান্সফার এর জন্য। সমস্যা হলে মন্তব্যে অথবা ফেসবুক গ্রুপে জানাতে ভুলবেন না।
সেই পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।
ধন্যভাদ সকলকে।