Monday, December 10, 2012

নিজের একটি টিভি চ্যানেল তৈরি করুন ১ম অংশ




সময়ের সাথে এগিয়ে চলছি আমরা, এগিয়ে চলছে সভ্যতা। এরই ধারবাহিকতায় টেরিষ্ট্রিয়াল টিভির (বিটিভি) যুগ পেরিয়ে আমরা চলে এসেছি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের যুগে। আর এই স্যাটেলাইট টিভিকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমাদের দেশে জন্ম নিয়েছে ‘ক্যাবল টিভি অপারেটর’ নামে একধরণের নতুন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের, সহজ ভাষায় যা আমাদের কাছে ‘ডিস কানেকশন’ বলে পরিচিত। কিন্তু এখানেই থেমে থামেনি এই প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রথম দিকে ক্যাবল টিভি অপারেটদের স্থাপিত নিজস্ব কন্ট্রোল রুমে সিডি বা ডিভিডি প্লেয়ারের মাধ্যমে ভিডিও চালিয়ে তার সেবা পৌছেঁ দেয়া হতো দর্শকদের টিভিতে। কিন্তু সেখানে ছিলনা কেন বিশেষায়িত ব্যবস্থা যার কারণে ক্যাবল টিভি অপারেটদের উক্ত ভিডিও চ্যানেল যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘লোকাল ভিডিও চ্যানেল’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় তার উপর কোন বিশেষ নিয়ন্ত্রণও ছিলনা। পরবর্তিতে কম্পিউটার প্রযুক্তির্ অগ্রগামীতার সাথে সাথে বাড়তে থাকে দর্শক ও অপারেটরদের চাহিদা।
দিনে দিনে এই ‘লোকাল ভিডিও চ্যানেল’ হয়ে ওঠে ক্যাবল টিভি অপারেটরদের ব্যবসা এবং একই সাথে দর্শকদের ভিন্ন মাত্রার বিনোদন, বিজ্ঞাপণ ও তথ্য সরবরাহের মাধ্যম। প্রয়োজন পড়ে বিশেষায়িত সফটওয়্যারের যার মাধ্যমে উক্ত বিনোদন, বিজ্ঞাপণ ও তথ্য সরবরাহের উপর অপারেটরদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। বাজারে আসে স্থানীয় প্রোগ্রামারদের তৈরীকৃত কিছু সফটওয়্যার, এমনকি ভারতীয় প্রোগ্রামাররাও এর উপর পুরোদমে কাজ শুরু করে দেয়। এমনি একটি সময়ে ২০০১ সালে তৈরী হয় ক্যাবটিভি’র প্রথম ভার্সণ, যা ব্যবহার শুরু করে দেশের শীর্ষস্থানীয় কিছু ক্যাবল অপারেটর, খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয় ক্রল বিজ্ঞাপণ এবং ভিডিও বিজ্ঞাপণ প্রচারের মাধ্যমে লাভের মুখ দেখে প্রতিষ্ঠানগুলো, স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খুঁজে পায় বিজ্ঞাপণ প্রচারের অত্যন্ত সহজ মাধ্যম, সুলভে, হাতের নাগালে। ২০০৮ সালের পর এর দ্বিতীয় ভার্সণ নিয়ে কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে দেশে অনেকগুলো স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল চলে আসে যাদের বিজ্ঞাপন ও প্রোগ্রাম প্রচারের ধরণ দেখে ক্যাবল অপারেটরদের নানামুখী চাহিদাও বাড়তে থাকে দিনকে দিন। ২০১০ সালে রিলিজ হয় ক্যাবটিভি’র নতুন ভার্সণ এবং ২০১১ সালে রিলিজ হয় ক্যাবটিভি’র তৃতীয় ভার্সণ।
ক্যাবটিভি ডাউনলোড: বর্তমানে ক্যাবটিভির তিনটি ইনষ্টলেশন ভার্সণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে এগুলো হচ্ছে ফুল ইনষ্টলেশন (২৫ মেগা), লাইট ইনষ্টলেশন (১০ মেগা), ইএক্সই (Exe) ভার্সণ (২ মেগা)। ফাইলগুলো সাইটে আপলোড করা হয়েছে। ফুল ইনষ্টলেশনে কিছু বাড়তি টুলস এবং ফ্লাশ এনিমেশন পাওয়া যাবে যা লাইট ভার্সণে অনুপস্থিত। আর ইএক্সই ভার্সণ শুধুমাত্র প্রোগ্রামের ইএক্সই ফাইলটি (Cabtv2011.exe) রয়েছে। যাদের কম্পিউটারে এর ডেপেন্ডেন্সি ফাইলগুলো আগে থেকেই রয়েছে তারা ইএক্সই ভার্সণটি ডাউনলোড করতে পারেন। যাদের কম নেট স্পিড তারা লাইট ভার্সণ এবং স্পিডের কোড সমস্যা না থাকলে ফুল ভার্সণ ডাউনলোড করতে পারেন। ক্যাবটিভি ইনষ্টলেশন অন্যান্য সাধারণ সফটওয়্যারের ন্যায় কয়েকটি ক্লিকের ব্যাপার মাত্র। সাধারণত এটি C:\Program Files\CabTV2011 এই ফোল্ডারে ইনষ্টল হবে। এছাড়া ডেস্কটপেও একটি শর্টকাট আইকন পাওয়া যাবে।
কোথায় ব্যবহৃত হতে পারে ক্যাবটিভি:
ক্যাবটিভি মুলত: ক্যাবল অপারেটরদের নিজস্ব লোকাল নেটওয়ার্কে টিভি চ্যানেল এর অটোমেশনের জন্য তৈরী করা হয়েছে, এছাড়াও বড়মাপের কোন হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, বন্দর অথবা হাল আমলের বড় ধরনের যাত্রীবাহী জাহাজের কেবিনের যাত্রীদের বিনোদনের জন্য ক্যাবটিভি ব্যবহার করা যেতে পারে। যার মাধ্যমে শুধু মাত্র ভিডিও প্রদর্শনই নয় বরঞ্চ বিনোদনের এই মাধ্যমটিকে একটি ব্রান্ডেড অবস্থানে নিয়ে যাওয়া এবং সেই সাথে লাভবান হওয়া এই সফটওয়্যারটির মুল লক্ষ।
কি আছে ক্যাবটিভি’র ২০১১ ভার্সণে:
০১. এই ভার্সণে যোগ হয়েছে একটি রান টাইম কন্ট্রোলার যার মাধ্যমে অপারেটররা চলমান ভিডিওকে সর্টকাট অথবা গ্রাফিক্যাল উভয় মোডেই সামনে, পেছনে, পুর্ববর্তী, পরবর্তী, নির্দিষ্ট ভিডিও চালানো, প্লে, পজ, পজিশন স্লাইডিং, শো/হাইড, ভলিউম বাড়ানো/কমানো মানে একটি আদর্শ ভিডিও প্লেয়ারের যা যা ফাংশনালিটি থাকা প্রয়োজন তার সবকিছুই পাবেন।
০২. সর্বাধিক সুবিধা সম্বলিত প্রোগ্রাম সিডিউল তৈরীর সুবিধা যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুযায়ী যেকোন কন্টেন্ট যেকোন নির্দিষ্ট সময়ে চালানো সম্ভব। সিডিউল তৈরীর সময়ে দ্রুত ফাইল খুঁজে পাওয়ার (File Navigation) জন্য রয়েছে ১১ টি লোকেশন শর্টকাট তৈরীর সুবিধা।
০৩. পুর্বের তৈরীকৃত সিডিউল নতুনভাবে ব্যবহার অথবা পুর্বের সিডিউল থেকে বাছাই করে কিছু ফাইল নতুন কোন সিডিউলে যোগ করার সুবিধা।
০৪. সিডিউল এডিটর (Schedule Editor) সাপোর্ট করে একাধারে দুটি ভাষার যার একটি ডিফল্ট ইংরেজী এবং অন্যটি ব্যবহারকারী কর্তৃক সেট করা সম্ভব। এছাড়া রয়েছে পূর্ণমাত্রায় সর্টকাট ব্যবহারের সুযোগ।
০৫. ব্যবহারকারী অন্যকোন মাধ্যমে সিডিউলকে স্থানান্তরের জন্য রয়েছে এক্সেল ফর্মেটে এক্সপোর্ট দেয়ার ব্যবস্থা।
০৬. সিডিউল তৈরীকালীন ফুটেজের দুরত্ব (Duration) পাওয়া যাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।
০৭. এতে রয়েছে বিশেষায়িত ভাবে ফুটেজ/ভিডিও/অডিওকে কাটার সুযোগ। যেমন এক ঘন্টাব্যাপী কোন ভিডিওর প্রতি দশ মিনিট অন্তর অন্তর অন্য কোন ভিডিও চালাতে হলে সাধারণভাবে উক্ত ফুটেজটিকে কোন সফটওয়্যারের মাধ্যমে কেটে নিতে হবে। কিন্তু এই ভার্সণে হার্ডডিস্কের মুল ফাইলকে কোন রকম পরিবর্তন না করেই ভিডিওটিকে ব্যবহারকারীর ইচ্ছেমত কেটে নেয়া সম্ভব যা এই সফটওয়্যারে ক্লিপ ট্রিমার (Clip Trimmer) নামে পরিচিত।
০৮. পূর্ণ কন্ট্রোলে বর্তমান ও আগত ভিডিও অবস্থান দেখার পরিবর্তে ক্ষুদ্র একটি কন্ট্রোলে দর্শকদের না দেখিয়েই পরিপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। অনুরূপভাবে রয়েছে ক্ষুদ্র একটি স্লাইডার বার যা ভিডিওকে সহজেই পজিশনিং করার কাজে ব্যবহার করা যাবে।
০৯. সরাসরি সমপ্রচার/হার্ডওয়্যার ডিভাইস (সিডি, ডিভিডি, ব্লু-রে)/অন্য কোন ভিডিও প্লেয়ার/অন্য কোন চ্যানেলের উপর অপারেটরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এই ভার্সণে যা এক্সটার্নাল ব্রডকাষ্ট হিসেবে পরিচিত।
১০. কোন কারণে দুর্ঘটনাবশত: (লোডশেডিং) সমপ্রচার বন্ধ হয়ে গেলে পুনরায় উক্ত পজিশন থেকে প্লেব্যাক শুরু করার রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সিস্টেম চালু করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রান হবার বিশেষ ব্যবস্থা (সেটিংসে)। যার সাহায্যে কারো কোন প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই কম্পিউটার চালু হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হওয়া অবস্থান থেকে সম্প্রচার শুরু হবে। যদি উক্ত বন্ধের কারণ কোন দুর্ঘটনা হয়। এছাড়াও ব্যবহারকারী চাইলে প্রতিবার চালুর সময়ই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্প্রচার শুরু করতে পারেন।
১১. নির্দিষ্ট সময়ে সমপ্রচার এবং কম্পিউটার বন্ধ বা পাওয়ার ম্যানেজ করার জন্য রয়েছে বিশেষায়িত ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষায়িত প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা।
১২. রয়েছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগত প্রোগ্রামের নাম ও সময় যে কোন ভাষায় দেখানোর ব্যবস্থা যা অনেকটা কোন ব্রান্ডেড টিভি চ্যানেলের অনুরূপ।
১৩. রয়েছে ৬ টি আলাদা সেটে ফ্লাশ বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ। এমনকি কোন একক ফ্রেমের ফ্লাশ ফাইলও (ফ্লাশ ক্লক) সমপ্রচার করা সম্ভব এবং এজন্য রয়েছে ব্যবহারকারী কর্তৃক রান টাইম ডিফাইনের সুযোগ। বিজ্ঞাপণগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে পপআপ হিসেবেও।
১৪. ফ্লাশের বিজ্ঞাপণগুলো ব্যবহারকারী কর্তৃক স্ক্রিণের যেকোন স্থানে যেকোন সাইজে যেকোন মোডে স্থাপন করা সম্ভব।
১৫. যেকোন ভাষায় পরিবর্তনযোগ্য বিল্ট ইন ডিজিটাল ঘড়ি। এছাড়া এনালগ ফ্লাশ ঘড়ি ব্যবহারের ব্যবস্থাতো রয়েছেই যা হতে পারে কোন কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের ব্রান্ডিংয়ের বিজ্ঞাপণ। এই ঘড়িই ব্যবহৃত হতে পারে শুধুমাত্র ইমেজড লোগো, শুধুমাত্র ঘড়ি অথবা একইসাতে ঘড়ি এবং ইমেজড লোগো উভয় হিসেবেই।
১৬. রয়েছে প্রয়োজনীয় সেটিংস নির্ধারণের সুব্যবস্থা, এমনকি ব্যবহারকারীর কোন প্রকার সেটিংস ছাড়াও এটি চলতে পারবে স্বাচ্ছ্যন্দে।
১৭. পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষা দেয়া যাবে এই সফটওয়্যারে এছাড়াও এতে ব্যবহার করা হয়েছে হার্ডওয়্যার বেজড লাইসেন্সিং সিস্টেম যার দরুন এটি ক্র্যাক (Crack) বা চুরি হবার সম্ভাবনা নেই। তবে  কম্পিউটার চালু হলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ক্যাবটিভি চালু হবার ক্ষেত্রে অবশ্যই পাসোয়ার্ড ডিজেবল করা থাকতে হবে।
১৮. কে-লাইট কোডেকের মাধ্যমে এতে সাপোর্ট করবে যে কোন ভিডিও/অডিও ফর্মেট। ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারেন তাদের নিজস্ব ইচ্ছেনুযায়ী অন্য যে কোন পছন্দের কোডেক।
১৯. এই সফটওয়্যারটি সাপোর্ট করবে যে কোন উইন্ডোজ ভার্সণ এমনকি উইন্ডোজ ৭ পর্যন্ত।
২০. সফটওয়্যারটিকে পোর্টেবল লোকেশন থেকেও ব্যবহার করা সম্ভব যার কারণে অপারেটিং সিস্টেমের পরিবর্তনের কারণেও এর কোন সেটিংস নষ্ট হবার কোনসম্ভাবনা নেই।

দ্রুত শুরু (Quick Start) করুন:
ক্যাবটিভি ২০১১ চালু করুন। এবারে মুল স্ক্রীণ থেকে উপরের বাম দিকের (Animation) এনিমেশন বাটনে ক্লিক করুন। (Animation) এনিমেশন ফর্মটি ওপেন হলে প্রথমেই ডানে নিচের দিকের (Exact Fit) একজাক্ট এবং (Enable In On-Air) এনাবল ইন অন এয়ার চেক দুটো দিয়ে দিন। উপরের (Select Animation Set) সিলেক্ট এনিমেশন সেট থেকে ০১ সিলেক্ট করুন। এবারে বিজ্ঞাপন লিষ্টের ফাঁকা জায়গায় মাউসের ডান বাটন ক্লিক করে (Insert Animation…) ইনসার্ট এনিমেশন এ ক্লিক করুন। ওপেন উইন্ডো থেকে আপনার কম্পিউটারে রক্ষিত (SWF) এসডব্লিউএফ ফরমেটের ফ্লাশ এনিমেশন ফাইল ওপেন করুন, যতগুলো আপনার প্রয়োজন। (Save) সেভ বাটনে ক্লিক করে বের হয়ে আসুন।
এবারে টুলবারের (Animation) এনিমেশনে বাটনের ডান পাশে ড্রপ ডাউন এরোতে ক্লিক করে (Animation Preview) এনিমেশন প্রিভিউ মেনু লিষ্টে ক্লিক করুন। ফুল ব্ল্যাক স্ক্রীণ আসবে। এবার (Animation-01) এনিমেশন ০১ রেডিও বাটনে ক্লিক করুন। (Top, Left, Width, Height) টপ, লেফট, ওয়াইড, হাইট এর প্লাস এবং মাইনাস বাটনগুলোতে ক্লিক করে আপনার প্রয়োজন মতো এনিমেশনটির অবস্থান সেট করে নিন। (Save) সেভ বাটনে ক্লিক করে (Exit) এক্সিট বাটনে ক্লিক করুন। ব্যাস হয়ে গেলো আপনার ভিডিও স্ক্রীণের এনিমেশন সেটিংস এবার ভিডিও সেট করতে হবে।
টুলবারের সর্ববামে (Schedule) সিডিউল আইকনে ক্লিক করুন। সিডিউল উইন্ডো ওপেন হলে বামে নিচের দিকে (Drive) ড্রাইভ বাটনে ক্লিক করে আপনার কম্পিউটারে রক্ষিত ভিডিও ফুটেজের যে কোন একটি ফোল্ডার সিলেক্ট করুন। ডানদিকে ফুটেজগুলো দেখা যাবে। যে ফুটেজগুলো আপনি প্লেব্যাক করতে চান সেগুলোর উপর ডাবলক্লিক করুন। এক সেকেন্ড অপেক্ষা করে ভিডিও ফুটেজগুলো সর্বডানের ফাইনাল এডিটর লিষ্টে এড হতে থাকবে।
এবারে টুলবার থেকে (Broadcast) ব্রডকাষ্ট আইকনে ক্লিক করুন। সর্বোচ্চ এক থেকে চার সেকেন্ডের মধ্যে প্লেব্যাক শুরু হবে। এবার কিবোর্ড থেকে (Alt+C) অল্টার+সি চাপুন। একটি গ্রাফিক্যাল কন্ট্রোলার আসবে যেখান থেকে আপনি আপনার প্লেব্যাককে গ্রাফিক্যাল মোডে কন্ট্রোল করতে পারবেন। প্লেব্যাক বন্ধ করতে চাইলে (Alt+X) অল্টার+এক্স চাপুন। প্রথম স্ক্রীণে চলে আসবে। উল্লেখ্য যে, আপনি এনিমেশন সেট না করেও প্লেব্যাক শুরু করতে পারবেন সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ভিডিওই প্রদর্শিত হবে।
প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার (System Requirements)
ক্যাবটিভি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের জন্য তৈরী করা হয়েছে। এটি উইন্ডোজের যে কোন ভার্সণে (৯৫ থেকে ৭) রান করবে। ক্যাবটিভির ইন্টেল পেন্টিয়াম-৪ বা এর উর্ধে যে কোন ক্যাটাগরির কম্পিউটারে স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে সক্ষম। তবে এর সাথে বাড়তি যোগ করতে হবে টিভি আউটপুট সহ একটি গ্রাফিক্স কার্ড। যত ভালমানের গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করা যাবে ততই ভাল আউটপুট পাওয়া যাবে। ক্যাবল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করার জন্য প্রয়োজন পড়বে একটি মডুলেটরের এবং একটি সংযোগকারী ক্যাবলের যা আমাদের দেশের ইলেক্ট্রনিক্স বাজারে অত্যন্ত সহজলভ্য।
সিডিউল এডিটর (Schedule Editor)
অডিও বা ভিডিও প্লেব্যাক চালানোর জন্য ব্যবহারকারী কর্তৃক অডিও বা ভিডিও নির্ধারণ করে দেয়ার জন্য সিডিউল এডিটর ব্যবহার করা হয়। এখান থেকে ভিডিও অডিও ফাইল নির্ধারণ ছাড়াও এই ফাইলগুলো কখন প্লে করবে এবং কিভাবে প্লে করবে তার বিস্তারিত অবস্থান সেট করে দেয়া সম্ভব।
ব্যবহারকারী প্লেব্যাকের পুর্বেই কোন ফাইলটি কখন শুরু হবে এবং কখন শেষ হবে তা এখান থেকে জেনে প্রয়োজন মাফিক সেট করা সম্ভব। নিচে প্রতিটি অংশের বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হলো।
সেভড প্লেলিষ্ট (Saved PlayList) এই অংশে ব্যবহারকারী কর্তৃক তৈরীকৃত প্লেলিষ্টগুলো সেভ আকারে থাকে। যে কোন প্লেলিষ্ট এর উপর ডাবল ক্লিক করে প্লে লিষ্টটি লিষ্ট এডিটরে ওপেন করে এডিট করা বা পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব। (Drop Down) ড্রপ ডাউন মেনুতে ক্লিক করা হলে কোন সেভ করা প্লে লিষ্ট ডান দিকের প্লেলিষ্ট এডিটরে ওপেন না হয়ে বামদিকে নতুন একটি উইন্ডোতে ওপেন হবে যেখান থেকে ইচ্ছে মাফিক সেভ করা প্লেলিষ্ট থেকে সিলেক্ট করা ফাইল সমুহ বর্তমান প্লেলিষ্টে এড করা যাবে।রি-ওপেন (Re-Open)করে এর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন করা হলে তা মুল সেভ করা প্লেলিষ্টে কোনরূপ পরিবর্তন করেনা।

এই অংশটি স্ক্রীণের বাম দিকে ছোট আকারে দেয়া থাকে তবে প্রয়োজন বোধে মাঝের বাটনটিতে ক্লিক করে এটিকে বড় আকারে দেখা সম্ভব। এখানে উল্লেখ্য যে কোন সেভ করা প্লেলিষ্টের নামের মধ্যে এটি প্লে করার সময়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যেতে পারে যার প্রথম চার ডিজিট হচ্ছে বছর, এরপর প্রতিটি আন্ডারস্কোরের পরে যথাক্রমে মাস, দিন/তারিখ, ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ড হিসেবে থাকে।
ব্রাউজ ফুটেজ (Browse Footage)
হার্ডডিস্ক বা অন্যকোন মাধ্যম থেকে ফুটেজ খুঁজে বের করার জন্য এই অংশটি ব্যবহার করা হয়। ড্রাইভ বাটনে ক্লিক করে কোন ফোল্ডার থেকে ফাইল সিলেক্ট করতে হবে তা নির্ধারণ করে দেয়া যায়। নিচে যে ড্রপ ডাউন মেনুটি দেখা যাচ্ছে সেটি হচ্ছে মুলত: ব্যবহারকারী কর্তৃক সেট কৃত কিছু ড্রাইভের সর্টকাট যেখানে (F1)এফ১ থেকে (F12) এফ১২ পর্যন্ত সর্টকাট ব্যবহার করা সম্ভব শুধুমাত্র (F8) এফ৮ বাদে।
কোন ড্রাইভ সিলেক্ট করা হলে ক্যাবটিভি’র সাপোর্টকৃত ফাইল উক্ত ফোল্ডারে থাকলে তা ডানদিকের ফাইললিষ্ট বক্সে দেখাবে। এখান থেকে ফাইলের উপর ডাবলক্লিক করে তা সিডিউল এডিটরে যোগ করা সম্ভব। অথবা এড অল (Add All)মেনু বা বাটনে ক্লিক করে স্বয়ংক্রিয় ভাবে প্রদর্শিত সবগুলো ফাইল সিডিউল এডিটরে যোগ করা যাবে। প্রতিটি ফাইল যোগ করার জন্য এক সেকেন্ড করে সময় প্রয়োজন হবে। ফাইললিষ্ট বক্সের ড্রপ ডাউন থেকে আপনি ইচ্ছে করলে ফাইল লিষ্ট বক্সের ফন্টের নাম ও সাইজ নির্ধারণ করে দিতে পারেন। (Explore) এক্সপ্লোর মেনুতে ক্লিক করে বর্তমানে ব্যবহৃত ফোল্ডারটি উইন্ডোজ এক্সপ্লোরারের মাধ্যমে ব্রাউজ করে দেখতে পারবেন। এর নিচে (Assign Shortcut) এসাইন সর্টকাট মেনু থেকে বর্তমানে ব্যবহৃত ফোল্ডার যেটি উপরের পাথ বক্সে দেখানো হচ্ছে সেটিকে আপনার পছন্দ মাফিক ফাংশন কী’তে এসাইন করতে পারবেন যা পরবর্তীতে উক্ত ফাংশন কী’তে শর্টকাটের মাধ্যমে নেভিগেট করা সম্ভব। উল্লেখ্য শর্টকাট ব্যবহারকারী ইচ্ছে করলে ম্যানুয়ালীও এসাইন করতে পারবেন।


No comments:

Post a Comment